একটি AI-তৈরি কার্টুন ছড়িয়ে পড়ে, যার কোণে ব্রেন্ডন লোপারের কলমি নাম ছিল, যদিও তিনি সেটি আঁকেননি। ৫ অক্টোবরের নিম্যান ল্যাব প্রতিবেদনেলোপার বলেন, লোকজন তাঁকে জিজ্ঞেস করতে যোগাযোগ করেছিল, ছবিটি তাঁর আঁকা কি না।

প্রতিবেদক অ্যান্ড্রু ডেক অনলাইনে একই ধরনের ছবি খুঁজে পান এবং নিজেই ChatGPT-তে নিউ ইয়র্কার-ধাঁচের কার্টুন তৈরি করেন। ওই দুই উৎসে তিনি পত্রিকাটির ১৫ জনেরও বেশি কার্টুনিস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাক্ষর নথিভুক্ত করেন। এটি তাঁর পাওয়া উদাহরণে শিল্পীর সংখ্যা; ChatGPT কত ঘন ঘন বাস্তব স্বাক্ষর তৈরি করে বা এমন কত কার্টুন ছড়াচ্ছে, তার মাপ নয়।

বড় পরিবর্তন

  • কী বদলেছে:নিম্যান ল্যাব নথিভুক্ত করেছে যে ChatGPT-তৈরি কার্টুনে বাস্তব কার্টুনিস্টদের বলে মনে হওয়া স্বাক্ষর ছিল, অথচ শিল্পীরা ছবিগুলো তৈরি করেননি। আউটপুটে তৈরি আঁকার সঙ্গে পত্রিকার দৃশ্যশৈলী নকল করার পাশাপাশি একজন পরিচিত শিল্পীর পরিচয়ও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
  • কেন গুরুত্বপূর্ণ:মূল প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে কার্টুনটি শেয়ার হলে স্বাক্ষরও তার সঙ্গে ছড়াতে পারে। লোপার নিম্যান ল্যাবকে বলেন, লোকজন জিজ্ঞেস করেছিল তিনি স্বাক্ষরযুক্ত ছবিটি তৈরি করেছেন কি না। শিল্পী ও প্রকাশকদের তাৎক্ষণিক সমস্যা হলো ভুলভাবে নাম জুড়ে দেওয়া; শুধু স্বাক্ষর দেখে মডেল কীভাবে সেগুলো শিখেছে বা কোনো আইন ভেঙেছে কি না, তা প্রমাণ হয় না।
  • কী নজরে রাখবেন:ডেক OpenAI-কে জানানোর পর ChatGPT তাঁকে তৃতীয় পক্ষের কনটেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে সতর্ক করতে শুরু করে; তবু কিছু স্বাক্ষরযুক্ত আউটপুট চলতে থাকে বলে তিনি জানান। সেগুলো বন্ধ হয় কি না, সেটি OpenAI-র প্রতিক্রিয়ার একটি সরাসরি মাপকাঠি। ডেকের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোম্পানিটি কারণ ব্যাখ্যা করেনি বা সম্পূর্ণ সমাধানের ঘোষণা দেয়নি।

প্রতিবেদনে কী পরীক্ষা করা হয়েছিল

ডেক জানান, তাঁর ChatGPT প্রম্পটে জর্জ বুথ, লিজা ডনেলি, এলিস রোজেন ও সল স্টেইনবার্গসহ অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাক্ষরযুক্ত কার্টুন তৈরি হয়েছিল। অনলাইন ফোরামে অন্য অবদানকারীদের নামসহ উদাহরণও তিনি পান। ফল একরকম ছিল না: কিছু আউটপুটে স্বাক্ষর ছিল না, আর কিছুতে বানানো কলমি নাম ছিল। OpenAI-কে জানানোর পর নিউ ইয়র্কার-ধাঁচের অনুরোধে ChatGPT তৃতীয় পক্ষের কনটেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে সতর্কবার্তা দেখাতে শুরু করে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ও কিছু তৈরি কার্টুনে বাস্তব কার্টুনিস্টদের নাম ছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

এটি ডেকের বর্ণিত পরীক্ষা, BIG CHANGE-এর পরীক্ষা নয়। প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ প্রম্পট-সেট, মডেল সংস্করণ, নমুনার আকার বা স্বাক্ষরযুক্ত আউটপুটের হার দেওয়া হয়নি। এসব তথ্য না থাকায় বিভিন্ন ব্যবহারকারী বা সংস্করণে বর্তমান আচরণ সম্পর্কে দাবি সীমিত থাকে।

শেয়ার হওয়া ছবিতে চিহ্নটি দেখা যাওয়ার পরিণতি লোপারের বর্ণনায় উঠে আসে: দর্শকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, ছবিটি তিনি তৈরি করেছেন কি না। কার্টুনিস্ট এমিলি ফ্লেক ডেককে বলেন, তৈরি আঁকাগুলো বিভিন্ন শিল্পীর শৈলীর মিশ্রণ বলে মনে হয়েছিল, অথচ স্বাক্ষরে তাঁর কলমি নাম পুনরুৎপাদিত হয়েছিল। শিল্পীদের এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: কোনো কার্টুন একটি ধারার মতো দেখতে পারে, কিন্তু নির্দিষ্ট কারও নামে চালানো নাও হতে পারে; স্বাক্ষর সেই পরিচয় আরোপকে স্পষ্ট করে।

OpenAI নিম্যান ল্যাবকে জানায়, বাগ ও মডেলের অনিচ্ছাকৃত আচরণের প্রতিবেদন পেলে তা সমাধানে তাদের সুবিধা হয় এবং তারা এমন প্রতিবেদনকে স্বাগত জানায়। বিবৃতিতে কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি, সম্পূর্ণ সমাধান চিহ্নিত করা হয়নি বা সময়সীমা দেওয়া হয়নি। ডেক জানান, তাঁর অভিযোগের পর সতর্কবার্তাটি দেখা যায় এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও স্বাক্ষরযুক্ত আউটপুট ছিল।

স্বাক্ষর কী প্রমাণ করতে পারে না

Condé Nast-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে OpenAI-র ২০২৪ সালের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থায় যেসব ব্র্যান্ডের কনটেন্ট দেখানো হবে তার মধ্যে রয়েছে The New Yorker—OpenAI-র পণ্যগুলোতে। এতে চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি বা কার্টুন মডেল প্রশিক্ষণে লাইসেন্স করা হয়েছে বলা হয়নি। New Yorker-এর এক মুখপাত্র নিম্যান ল্যাবকে বলেন, Condé Nast কোনো বড় ভাষা-মডেল নির্মাতাকে তাদের কার্টুনে প্রশিক্ষণের অনুমতি দেয়নি। অবদানকারী কার্টুনিস্টদের চুক্তির নমুনা পর্যালোচনা করে AI প্রশিক্ষণের লাইসেন্সের অনুমতি ছিল না বলেও ডেক জানান। অধিকার নিয়ে এগুলো পৃথক বক্তব্য; দৃশ্যমান স্বাক্ষর একা মডেল কীভাবে ওই ধরন শিখেছে তা দেখাতে পারে না বা কোনো চুক্তির আওতা স্থির করে না।

স্বাক্ষরগুলো কীভাবে প্রশিক্ষণ-উপকরণে এসেছে, ডেক OpenAI-কে তা জিজ্ঞেস করেন; এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাননি বলে জানান। সম্ভাব্য আইনি তত্ত্ব, যার মধ্যে publicity right-ও রয়েছে, তা নিয়ে তিনি কর্নেল আইন অধ্যাপক জেমস গ্রিমেলম্যানের সাক্ষাৎকার নেন। আলোচনাটি সম্ভাব্য দাবি ও বাধাগুলো চিহ্নিত করে, এই ছবিগুলো নিয়ে আদালতের রায় নয়। নির্দিষ্ট কোনো কার্টুন কারও অধিকার লঙ্ঘন করেছে কি না, তা অমীমাংসিত।